অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩১ পিএম

পাকিস্তানের ‘অপারেশন গজব লিল-হক’ ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের বিস্তারিত চিত্র

পাকিস্তানের ‘অপারেশন গজব লিল-হক’ ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের বিস্তারিত চিত্র

দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সীমান্তে শুরু হয়েছে এক ভয়াবহ সামরিক সংঘাত। গত কয়েকদিন ধরে চলা বিচ্ছিন্ন উত্তেজনা বৃহস্পতিবার রাতে সরাসরি যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী অপারেশন গজব লিল-হক নামে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার পর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে এখন বারুদ আর গোলার শব্দের ঘনঘটা চলছে।

শুক্রবার দিনভর চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দুই পক্ষই একে অপরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে।

শুক্রবার বিকেলে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্রের দেওয়া তথ্যমতে, অপারেশন গজব লিল-হক অভিযানে এ পর্যন্ত আফগান তালেবানের ২২৮ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। আল-জাজিরার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, এই সংঘর্ষে অন্তত ৩১৪ জন তালেবান যোদ্ধা আহত হয়েছেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দাবি, তারা তালেবানের ৭৪টি সামরিক চৌকি পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে এবং ১৮টি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ চৌকি নিজেদের দখলে নিয়েছে।

এর আগে সকালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি জানিয়েছিলেন, নিহতের সংখ্যা ১৩৩। তবে বিকেলের দিকে সামরিক মুখপাত্রের পরিসংখ্যানে সেই সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়। ইসলামাবাদ দাবি করেছে, দুই পক্ষের গোলাগুলিতে এ পর্যন্ত ২৭ জন পাকিস্তানি নাগরিক বা সেনা আহত হয়েছেন।

এদিকে পাকিস্তানের দেওয়া বিশাল হতাহতের তথ্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, মাত্র ৮ জন যোদ্ধা নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন।

আফগানিস্তানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল আফগানিস্তান ন্যাশনাল টিভি জানিয়েছে, পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলায় এক নারী ও দুই স্কুল শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছে। আবাসিক এলাকায় চালানো এই বোমা হামলায় আরও সাতজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের প্রতিবেদনেও এই হতাহতের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে স্থান পেয়েছে, যদিও তারা নিরপেক্ষভাবে তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, আফগানরা সাহসের সঙ্গে এই আগ্রাসনের জবাব দেবে।

আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, পাকিস্তান সীমান্তে যুদ্ধ থামাতে বারবার যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানাচ্ছিল। তিনি বলেন, আমরা সংলাপের মাধ্যমে সমাধান চাই, কিন্তু পাকিস্তান হামলা চালিয়ে গেলে আমাদের কঠোর জবাব দেওয়ার সামর্থ্য আছে। মুজাহিদ আরও দাবি করেন, তালেবান বাহিনী পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা বার্তা দিয়েছি, আমাদের হাত তাদের গলা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের ইস্যুটিকে পাকিস্তান তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ঢাকার পূর্বপরিকল্পিত অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একই সাথে ভারতের সাথে আফগানিস্তানের সুসম্পর্ককে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র নয় বলেও তিনি সাফ জানিয়ে দেন।

সীমান্তের লড়াই এবার পাকিস্তানের মূল ভূখণ্ডেও ছড়িয়ে পড়ছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেছেন, আফগানিস্তান থেকে পাঠানো ড্রোন দিয়ে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদ, সোয়াবি ও নওশেরা শহরে হামলা চালানো হয়েছে।

যদিও পাকিস্তানি বাহিনী সেই ড্রোনগুলো ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে এবং কোনো প্রাণহানি ঘটেনি, তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের এই ভয়াবহ সংঘাত এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আন্তর্জাতিক মহল থেকে নানামুখী তৎপরতা শুরু হয়েছে।

বন্ধু দেশ চীন উভয় পক্ষকে সংযত থাকার এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, তারা নিজস্ব মাধ্যম ব্যবহার করে দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত। ক্রেমলিন থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে রাশিয়া দুই দেশকে অবিলম্বে লড়াই বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া পাকিস্তানের এই সংকটে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। সৌদি আরব উত্তেজনা কমিয়ে শান্তি ফেরানোর ওপর জোর দিচ্ছে।

তোরখাম সীমান্তসহ বিভিন্ন পয়েন্টে এখন ভারী মর্টার আর মেশিনগানের গর্জন শোনা যাচ্ছে। পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, তালেবানের হামলায় তাদের ৫৫ সেনা নিহতের কথা তালেবান প্রচার করলেও ইসলামাবাদ তা অস্বীকার করেছে। সীমান্ত এলাকার গ্রামগুলো থেকে সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে শুরু করেছে।

পাকতিকার বিধ্বস্ত গ্রামগুলোতে ধ্বংসপ্রাপ্ত গাড়ি আর বোমার গর্তের পাশে শিশুদের বিষণ্ণ মুখ যেন যুদ্ধের ভয়াবহতারই প্রতিচ্ছবি। অপারেশন গজব লিল-হক দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে রূপ নেবে নাকি আন্তর্জাতিক চাপে দুই দেশ আলোচনার টেবিলে ফিরবে, তা এখন সময়ের অপেক্ষা। তবে আপাতত সীমান্তে বারুদের গন্ধ আর আকাশজুড়ে ড্রোনের আনাগোনা এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

অনুমতি না নিয়ে শিক্ষকরা অন্য পেশায় থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী

পাকিস্তানের ‘অপারেশন গজব লিল-হক’ ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের বিস্তারিত চিত্র

শিক্ষামন্ত্রী আনম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা অনুমতি না নিয়ে অন্য পেশায় থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জাতির দর্পণ হিসেবে গণমাধ্যমে তুলে ধরলে ব্যবস্থা নিতে সহজ হবে।

তিনি শুক্রবার বিকালে চাঁদপুরে কচুয়া উপজেলা পরিষদে আইন শৃঙ্খলা সভায় যোগ দেয়ার পূর্বে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী কারিগরী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে বলেন, বিগত সরকার পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ দেয়নি। দুই-চার মাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা করা হবে।

এরআগে শিক্ষামন্ত্রীকে ফুলের শুভেচ্ছা জানান উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ।

মতলবে মুন্সীরহাট স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে ৩ টি বাসে আগুন

পাকিস্তানের ‘অপারেশন গজব লিল-হক’ ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের বিস্তারিত চিত্র

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার মুন্সীরহাট বাস স্ট্যান্ডে জৈনপুর এক্সপ্রেস নামক দাঁড়িয়ে থাকা ৩ টি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে এসে প্রায় আধা ঘন্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আনে। তবে কে বা কীভাবে আগুনের সূত্রপাত তা নিশ্চিত করা যায়নি।

অগ্নিকান্ডে ১টি বাস পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ২টি বাস আংশিক ক্ষতি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীর জানান, মুন্সীরহাট দক্ষিণ বাজারে স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা জৈনপুর এক্সপ্রেস (ঢাকা মেট্রো ব-(১৫-৩৫৮৪) বাসে আগুন দেখতে পাই স্ট্যান্ডে থাকা অন্যান্য বাসের স্টাফ ও কর্মচারীরা। এ সময় কিছু বুঝে ওঠার আগেই মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে আগুন পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে। এবং পার্শ্ববর্তী আরও দুটি বাসে আগুন লেগে যায়। এ সময় বাসস্ট্যান্ডের স্টাফ শ্রমিক ও পথচারীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে এবং ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আধা ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে পূর্ব শত্রুতার জেরে বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা হয়েছে বলে ধারণা করছে স্ট্যান্ডে থাকা শ্রমিক ও কর্মচারীরা।

মতলব দক্ষিণ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান তুহিন বলেন,, প্রাথমিকভাবে আগুনের লাগার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ নির্ণয় করার যায়নি। দুটি ইউনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

কঙ্গোতে গণকবরে মিলল ১৭১ মরদেহ

পাকিস্তানের ‘অপারেশন গজব লিল-হক’ ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের বিস্তারিত চিত্র

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের পূর্বাঞ্চল থেকে এম২৩ বিদ্রোহীরা সরে যাওয়ার পর সেখানে দুটি গণকবরের সন্ধান পেয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও একটি নাগরিক সমাজ সংগঠন।

বৃহস্পতিবার দেশটির উভিরা শহরের উপকণ্ঠে কিরোমনি ও কাভিমভিরা এলাকায় এই গণকবরগুলো থেকে অন্তত ১৭১টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

দক্ষিণ কিভু প্রদেশের গভর্নর জ্যাঁ-জ্যাক পুরুসি জানান, কিরোমনিতে প্রায় ৩০টি এবং কাভিমভিরায় ১৪১টি মরদেহ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সংগঠন সিভিলিয়ান প্রোটেকশন নেটওয়ার্কের এক নেতা দাবি করেছেন, নিহতরা এম২৩ বিদ্রোহীদের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন। বিদ্রোহীদের ধারণা ছিল, নিহতরা সরকারি বাহিনী বা সরকারপন্থি মিলিশিয়ার সদস্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে এসব অভিযোগ এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। মানবাধিকার সংগঠনগুলো অতীতে কঙ্গোর সেনাবাহিনী ও এম২৩ উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিল। খনিজসম্পদসমৃদ্ধ এই অঞ্চলটি রুয়ান্ডা সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে।

২০২১ সালে লড়াই তীব্র হওয়ার পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বিদ্রোহীরা উত্তর কিভুর রাজধানী গোমা দখল করে। পরবর্তীতে দক্ষিণ কিভুর বুকাভু ও উভিরাও তাদের নিয়ন্ত্রণে যায়। তবে সম্প্রতি শান্তি প্রক্রিয়ায় সহায়তার কথা বলে বিদ্রোহীরা উভিরা থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। কঙ্গো সরকার এই বিদ্রোহীদের সহায়তার জন্য প্রতিবেশী রুয়ান্ডাকে দায়ী করে আসছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৭০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং নিহত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। পূর্ব কঙ্গোর এই সংঘাত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।