অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম

ঘরে বসে ইউরোপের জাল ভিসা তৈরি, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি স্বামী-স্ত্রী ধরা

ঘরে বসে ইউরোপের জাল ভিসা তৈরি, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি স্বামী-স্ত্রী ধরা

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রবেশের জন্য জাল ভিসা তৈরির সঙ্গে জড়িত এক বাংলাদেশি দম্পতিকে আটক করা হয়েছে। মালয়েশিয়ার আদালতে তাদেরকে ১ লাখ ১২ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা করা হয়েছে এবং অনাদায়ে ৪৫ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাজা ভোগ শেষে তাদেরকে কালো তালিকাভুক্ত করে দেশে ফেরত পাঠানো হবে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে কুয়ালালামপুর অভিবাসন বিভাগ।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রায় তিন মাসের দীর্ঘ গোয়েন্দা নজরদারির পর গত ১০ ফেব্রুয়ারি কুয়ালালামপুরের সুঙ্গাই বেসি এলাকার একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে ওই দম্পতিকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে জাল ভিসা তৈরির জন্য ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করেছে পুলিশ। এর মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু বাংলাদেশি পাসপোর্ট, বিভিন্ন দেশের ভুয়া রাবার স্ট্যাম্প, জাল ইমিগ্রেশন স্লিপ, ল্যাপটপ এবং ভিসা তৈরির আধুনিক সরঞ্জাম।

অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার স্বামী-স্ত্রী উভয়েই বাংলাদেশি নাগরিক এবং তাদের বয়স ৩০-এর কোঠায়। তারা গত আট মাস ধরে অত্যন্ত গোপনে জাল ভিসার কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।

ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার করে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের জাল ভিসা তৈরি করতেন তারা। প্রতিটি জাল ভিসার বিনিময়ে তারা গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ২০ হাজার রিঙ্গিত (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকা) নিতেন।

পুলিশ জানায়, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল এই চক্রটি। তারা এত নিখুঁতভাবে ভিসা জালিয়াতি করতেন যে তা সাধারণ মানুষের পক্ষে ধরা প্রায় অসম্ভব ছিল।

গ্রেপ্তারের পর গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) অভিযুক্তদের কুয়ালালামপুর আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের সামনে তারা ৯টি ভিন্ন অভিযোগে নিজেদের দোষ স্বীকার করেন। আদালত তাদের মোট ১ লাখ ১২ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা এবং অনাদায়ে ৪৫ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

সাজা ভোগের পর তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে এবং ভবিষ্যতে মালয়েশিয়ায় প্রবেশের ক্ষেত্রে আজীবনের জন্য কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগ দেশটিতে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

অনুমতি না নিয়ে শিক্ষকরা অন্য পেশায় থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী

ঘরে বসে ইউরোপের জাল ভিসা তৈরি, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি স্বামী-স্ত্রী ধরা

শিক্ষামন্ত্রী আনম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা অনুমতি না নিয়ে অন্য পেশায় থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জাতির দর্পণ হিসেবে গণমাধ্যমে তুলে ধরলে ব্যবস্থা নিতে সহজ হবে।

তিনি শুক্রবার বিকালে চাঁদপুরে কচুয়া উপজেলা পরিষদে আইন শৃঙ্খলা সভায় যোগ দেয়ার পূর্বে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী কারিগরী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে বলেন, বিগত সরকার পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ দেয়নি। দুই-চার মাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা করা হবে।

এরআগে শিক্ষামন্ত্রীকে ফুলের শুভেচ্ছা জানান উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ।

মতলবে মুন্সীরহাট স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে ৩ টি বাসে আগুন

ঘরে বসে ইউরোপের জাল ভিসা তৈরি, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি স্বামী-স্ত্রী ধরা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার মুন্সীরহাট বাস স্ট্যান্ডে জৈনপুর এক্সপ্রেস নামক দাঁড়িয়ে থাকা ৩ টি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে এসে প্রায় আধা ঘন্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আনে। তবে কে বা কীভাবে আগুনের সূত্রপাত তা নিশ্চিত করা যায়নি।

অগ্নিকান্ডে ১টি বাস পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ২টি বাস আংশিক ক্ষতি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীর জানান, মুন্সীরহাট দক্ষিণ বাজারে স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা জৈনপুর এক্সপ্রেস (ঢাকা মেট্রো ব-(১৫-৩৫৮৪) বাসে আগুন দেখতে পাই স্ট্যান্ডে থাকা অন্যান্য বাসের স্টাফ ও কর্মচারীরা। এ সময় কিছু বুঝে ওঠার আগেই মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে আগুন পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে। এবং পার্শ্ববর্তী আরও দুটি বাসে আগুন লেগে যায়। এ সময় বাসস্ট্যান্ডের স্টাফ শ্রমিক ও পথচারীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে এবং ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আধা ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে পূর্ব শত্রুতার জেরে বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা হয়েছে বলে ধারণা করছে স্ট্যান্ডে থাকা শ্রমিক ও কর্মচারীরা।

মতলব দক্ষিণ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান তুহিন বলেন,, প্রাথমিকভাবে আগুনের লাগার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ নির্ণয় করার যায়নি। দুটি ইউনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

কঙ্গোতে গণকবরে মিলল ১৭১ মরদেহ

ঘরে বসে ইউরোপের জাল ভিসা তৈরি, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি স্বামী-স্ত্রী ধরা

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের পূর্বাঞ্চল থেকে এম২৩ বিদ্রোহীরা সরে যাওয়ার পর সেখানে দুটি গণকবরের সন্ধান পেয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও একটি নাগরিক সমাজ সংগঠন।

বৃহস্পতিবার দেশটির উভিরা শহরের উপকণ্ঠে কিরোমনি ও কাভিমভিরা এলাকায় এই গণকবরগুলো থেকে অন্তত ১৭১টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

দক্ষিণ কিভু প্রদেশের গভর্নর জ্যাঁ-জ্যাক পুরুসি জানান, কিরোমনিতে প্রায় ৩০টি এবং কাভিমভিরায় ১৪১টি মরদেহ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সংগঠন সিভিলিয়ান প্রোটেকশন নেটওয়ার্কের এক নেতা দাবি করেছেন, নিহতরা এম২৩ বিদ্রোহীদের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন। বিদ্রোহীদের ধারণা ছিল, নিহতরা সরকারি বাহিনী বা সরকারপন্থি মিলিশিয়ার সদস্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে এসব অভিযোগ এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। মানবাধিকার সংগঠনগুলো অতীতে কঙ্গোর সেনাবাহিনী ও এম২৩ উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিল। খনিজসম্পদসমৃদ্ধ এই অঞ্চলটি রুয়ান্ডা সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে।

২০২১ সালে লড়াই তীব্র হওয়ার পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বিদ্রোহীরা উত্তর কিভুর রাজধানী গোমা দখল করে। পরবর্তীতে দক্ষিণ কিভুর বুকাভু ও উভিরাও তাদের নিয়ন্ত্রণে যায়। তবে সম্প্রতি শান্তি প্রক্রিয়ায় সহায়তার কথা বলে বিদ্রোহীরা উভিরা থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। কঙ্গো সরকার এই বিদ্রোহীদের সহায়তার জন্য প্রতিবেশী রুয়ান্ডাকে দায়ী করে আসছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৭০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং নিহত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। পূর্ব কঙ্গোর এই সংঘাত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।